সুনামগঞ্জের একটি মসজিদে আজান হয় না ৫ বছর |

সুনামগঞ্জের একটি মসজিদে আজান হয় না ৫ বছর
|
সুনামগঞ্জ থেকে গোবিন্দ দেব

সুনামগঞ্জের একটি মসজিদে আজান হয় না ৫ বছর
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়নের হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধে সাত বছর আগে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ। মসজিদটি নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অথচ মসজিদটিতে পাঁচ বছর আজান হয় না। কেননা গত পাঁচ বছর ধরে মসজিদটি তালাবদ্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ৫নং সাব সেক্টর হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি টাকায় সাত বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখন মসজিদের পাশে একটি রেস্ট হাউজ ছিল। সেই রেস্ট হাউজের এক কেয়ারটেকার মসজিদ নির্মাণের পর দুই বছর নিজ দায়িত্বে নামাজ পড়িয়েছেন। সেই কেয়ারটেকার এখন আর এখানে নেই। এখন পর্যন্ত ওই মসজিদে নিয়োগ দেয়া হয়নি ইমাম ও মুয়াজ্জিন।
ঘুরতে আসা দশনার্থীরা বলছেন, এটা কর্তৃপক্ষের অবহেলা। মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন না থাকায় আজান ও নামাজ হচ্ছে না। এটা মুসল্লিদের জন্য কষ্টের। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল আহমেদ বলেন, এখানে অনেক মানুষ ইতিহাস জানতে ও দেখতে আসেন। তবে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারেন না। এটা তালাবদ্ধ থাকে সবসময়।

সুনামগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা দশনার্থী আল হাবিব বলেন, ‘সময়ের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ৫নং সাব সেক্টর হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধে আসা হয়নি। তাই সুযোগ বের করে এখানে ঘুরতে এসেছি। এখানে সব ঠিক আছে। তবে পাঁচ বছর মসজিদে আজান হয় না জেনে অবাক হয়েছি। এটা আসলেই দুঃখজনক। একটা মসজিদ পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ!’

আরমান আহমেদ নামের আরেক দর্শনার্থী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দোয়ারাবাজারে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেগুলো দেখতেই এখানে আসা। কিন্তু এখানে এসে মনটা খারাপ হয়ে গেল। দূর থেকে মসজিদ আছে দেখে এখানে নামাজ পড়তে আসলে স্থানীয়রা জানান, এটি পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ। ভাবতেও অবাক লাগে একটি মসজিদ কীভাবে পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ থাকে? আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত মসজিদটি উম্মুক্ত করে দেয়া হোক।’

স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, ‘মসজিদ নির্মাণের পর মসজিদের পাশে একটা রেস্ট হাউজ আছে। সেই রেস্ট হাউজের একজন কর্মচারী প্রথম অবস্থায় এই মসজিদে নামাজ পড়েছে। কিন্তু সেও এখন আর এখানে থাকে না। তাই মসজিদটি পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ।’

স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। আমাদের দাবি মসজিদ তালাবদ্ধ করার জিনিস নয়। মসজিদ তালাবদ্ধ থাকায় নামাজ পড়তে মুসল্লিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। মসজিদ বন্ধ থাকতে থাকতে মসজিদের ভেতরে এখন বৃষ্টির পানি পড়ে। আমরা জোর দাবি জানাই মসজিদটি মেরামত করে দ্রুত উম্মুক্ত করা হোক।
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম আহমেদ চৌধুরী রানা বলেন, মসজিদ নির্মাণের পর আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে কেয়ারটেকার এবং ইমাম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম। সে দুই বছর মসজিদে নামাজ পড়িয়েছে। পরে হঠাৎ একদিন কোনো একটা কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে মসজিদটি নিয়ে আমরা বিপাকে পড়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, আমি সমন্বয় সভায় মসজিদটি চালুর বিষয়ে অনেকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। আশা করি, খুব দ্রুত মসজিদে ইমাম নিয়োগ দিয়ে মসজিদটি নামাজের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুনিয়া সুলতানা বলেন, মসজিদের বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আবু ছিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘তালাবদ্ধ মসজিদটির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

SHARE

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ফেসবুকে আমরা..

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
31      
   1234
567891011
12131415161718
       
293031    
       
       
       
    123
45678910
11121314151617
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
31      
  12345
2728293031  
       
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
       
  12345
6789101112
27282930   
       
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031