ভালুকায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক খেলার মাঠ দখলের চেষ্টা, খারিজ বাতিল
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক খেলার মাঠ দখলের পাঁয়তারা থেকে রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষে মাঠের জমির খারিজ বাতিল করা হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে।
উপজেলার ৫ নম্বর বিরুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দরাটি মৌজায় প্রায় ৬৪ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত এ মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাঠটির দাগ নম্বর ৩১৪।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খেলাধুলার পাশাপাশি একসময় এ মাঠে কৃষকরা ধান উড়ানো ও রোদে শুকানোর কাজও করতেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও মাঠটি ব্যবহৃত হতো। ফলে মাঠটি শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, শৈশব ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ঐতিহাসিক এ মাঠের জমি নিজেদের নামে খারিজ করে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাফুজুল রহমান রনি ও আব্দুল মান্নান চঞ্চল নামে একই এলাকার দুই বাসিন্দার বিরুদ্ধে মাঠের জমি নিজেদের নামে খারিজ করে দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে মাঠ রক্ষায় সোচ্চার হয়ে ওঠেন স্থানীয় যুবসমাজ ও এলাকাবাসী। তাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠটি রক্ষায় উদ্যোগ নেন ৫ নম্বর বিরুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুল হোসাইন।
পরে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইনের নজরে আনা হলে মাঠের জমি সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ওই জমির খারিজ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, খারিজ বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কেউ মাঠটি দখল বা বেদখলের চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য মাঠটির সীমানা নির্ধারণসহ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি এলাকার মানুষের শৈশব, সামাজিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন। তাই ঐতিহাসিক এ মাঠটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
